
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে অনুষ্ঠিত হয় এক আবেগঘন স্মরণানুষ্ঠান। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমান অসংখ্য অনুরাগী, চলচ্চিত্র জগতের শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট অতিথিরা। মহানায়কের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল ও মাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন উপস্থিত সকলেই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, উত্তম কুমার শুধুমাত্র একজন অভিনেতা নন, তিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের এক চিরন্তন প্রতীক।

এদিনের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী এবং প্রবীণ অভিনেত্রী রত্না ঘোষালও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর অভিনয়শৈলী, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা সিনেমায় তাঁর অমূল্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, উত্তম কুমারের অভিনয় আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

প্রয়াণের ৪৭ বছর পরও মহানায়ক উত্তম কুমার বাঙালির হৃদয়ে সমানভাবে অমলিন। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্র, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং শিল্পীসত্তা আজও বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর স্মৃতিচারণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে উপস্থিত সকলেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই অমর কিংবদন্তিকে।
