
মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে ঘিরে বাংলা চলচ্চিত্রজগতে শুরু হয়েছে বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতি। গতকাল নন্দন চত্বরে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি পর্বের সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। মহানায়কের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁর অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর জীবন, কর্ম এবং বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নন্দনের এই প্রস্তুতি পর্বে মুখ্যমন্ত্রী চলচ্চিত্রজগতের ঐতিহ্য, বাংলা সিনেমার গৌরব এবং আগামী দিনের চলচ্চিত্রচর্চা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। মহানায়ক উত্তম কুমার শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র-ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এই ভাবনাই অনুষ্ঠানের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
উত্তম কুমারের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে তাঁর নামে একটি ফিল্ম সেন্টার তৈরির পরিকল্পনার কথাও ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তম মঞ্চ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মহানায়কের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে ৩২তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে সামনে রেখে নন্দনকে ঘিরে প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করা, নতুন প্রজন্মের নির্মাতা ও শিল্পীদের উৎসাহ দেওয়া এবং বাংলার চলচ্চিত্র-ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে।
মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব—দুই আয়োজনকে ঘিরেই তাই নন্দন চত্বরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবহ। একদিকে অতীতের সোনালি অধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের চলচ্চিত্রচর্চার নতুন সম্ভাবনা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই এবারের আয়োজনকে স্মরণীয় করে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
