
২২শে শ্রাবণ—বাঙালির কাছে দিনটি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার। এই দিনেই প্রয়াত হয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে গতকাল উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিমতলা মহাশ্মশানে তাঁর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এই উপলক্ষে বহু বিশিষ্ট গুণীজন ও রবীন্দ্রপ্রেমী সেখানে উপস্থিত হয়ে কবিগুরুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক ও মাল্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। উপস্থিত সকলের কণ্ঠে ও আলোচনায় উঠে আসে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, মানবতাবাদ এবং বাঙালির সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা।

নিমতলা মহাশ্মশান শুধু কলকাতার একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ অধ্যায়ের সঙ্গেও এই স্থান গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ১৯৪১ সালে এখানেই কবিগুরুর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীকালে নিমতলা প্রাঙ্গণে তাঁর স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে।
২২শে শ্রাবণে তাই নিমতলার পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন। কবিগুরুর অমর সৃষ্টি, তাঁর মানবতার বাণী এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর অবদানকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত মানুষজন।
সময় পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথ বাঙালির হৃদয়ে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখিয়ে চলেছে। ২২শে শ্রাবণের এই শ্রদ্ধাঞ্জলি যেন সেই চিরন্তন স্মৃতিরই পুনরুচ্চারণ—কবিগুরু নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শ আজও আমাদের মাঝে অমলিন।
